Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম উঠে গেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। জ্বালানির এই বাড়তি দামের কারণে পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও চাপ বাড়ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৫ দশমিক ৮৫ ডলার। গত বছর একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার।  এর আগে ২০২২ সালের জুনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশটিতে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। ডিজেলের বর্তমান মূল্য সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এর পেছনে বিশ্ববাজারে পাইকারি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ও উৎপাদন খরচে। ভারী যন্ত্রপাতি, বাস, ট্রেন ও পণ্যবাহী ট্রাকে ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডিজেলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও বাড়ছে। শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য দাঁড়ায় ৪ দশমিক ১৪ ডলারে। লেবার ডে ছুটির সপ্তাহান্তকে সামনে রেখে বছরের এই সময়ের জন্য এটিও রেকর্ড দাম।

এএএ বলছে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাব সরাসরি জ্বালানির খুচরা বাজারে পড়ছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে দাবি করেন, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল প্রণালিটি দিয়ে যাচ্ছে, যা যুদ্ধের আগের সময়ের কাছাকাছি।

একই দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ‘কার্যত শেষ’ হয়ে গেছে। তবে ট্যাংকারগুলোর প্রকৃত চলাচল যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। মার্কিন সুরক্ষায় চলাচলকারী অনেক জাহাজ ইরানি বাহিনীর নজর এড়াতে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারকে প্রভাবিত করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় দুই নাবিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় দেশটির রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করেছে। জনমত জরিপে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন