শর্ত মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা মানবে ইরান: পেজেশকিয়ান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতার শর্ত মেনে চললে ইরানও একইভাবে তা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সাথে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তার জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো সমঝোতা পারস্পরিকতা ও আস্থার ভিত্তিতে হতে হবে। একতরফাভাবে কোনো চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত ও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করলে তেহরানও তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।
মার্কিন বক্তব্য ও হুমকি প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরান অযৌক্তিক বক্তব্য ও ভিত্তিহীন হুমকির জবাব যুক্তিসংগত সতর্কতা এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান বজায় রেখেই দেবে। তবে প্রয়োজন হলে ইরান দৃঢ়ভাবে আত্মরক্ষা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
পেজেশকিয়ানের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত ১৮ জুন ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা কমানোর একটি কাঠামো তৈরি হয়েছিল।
সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইরানের তেল রপ্তানি এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিস্তৃত ইস্যুতে ভবিষ্যৎ আলোচনা প্রাথমিক শর্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগটি চাপের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দুই দফা হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন হামলাকে সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। তবে পরে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালির কাছে পাল্টাপাল্টি হামলার পর আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াবে।
এদিকে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এর গুরুত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণও হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছেন, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় অগ্রগতি আনতে হলে উভয় পক্ষকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং একতরফা পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে। পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
তেহরানের বার্তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত মেনে চললে ইরানও তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে হুমকি এলে পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক ও যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দৃঢ় আত্মরক্ষার পথও খোলা রাখছে ইরান।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)