নেপালে 'ফ্লাশ ফ্লাড-ভূমিধস': ১১ হাজারের বেশি মানুষ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪ হাজার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রায় ৪ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) মুখপাত্র শান্তি মাহাত জানান, সোমবার পর্যন্ত বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্গত অঞ্চলে উদ্ধারকাজ জোরদার করতে অন্তত ১৬টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল সরকার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ইতোমধ্যে ২৫৪ জন শ্রমিক ও কারিগরকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানেলে আটকে পড়া কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ভারত ও চীনের টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯২৭টি মরদেহ ময়নাতদন্ত ও সংরক্ষণের জন্য সিল করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এর মধ্যে ৫১টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো ৭২৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৪১৩টির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দাফন বা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৭০ জনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রমও চলছে।
এদিকে বিষ্ণুমতী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে এনডিআরআরএমএ। কাঠমান্ডুর গঙ্গাবু এলাকার কাছে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)