নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪, হতাহত হয়নি কোনো বাংলাদেশি
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (ফ্লাশ ফ্লাড) ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৪ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন। তবে দুর্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বশেষ প্রকাশ্য তথ্যে এমনটাই জানানো হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ৭৯৪ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। সবচেয়ে বেশি ২৬৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। নাওয়ালপারাসি পূর্বে ১৯৪টি এবং নাওয়ালপারাসি পশ্চিমে ১২০টি মরদেহ পাওয়া গেছে।
এদিকে নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বত অংশে আরো ১৬ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সেখানে ৫৪৬ জন এখনো নিখোঁজ। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৮০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদা নিচের দিকে নেমে আসে। এতে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে ৮ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার ভোটেকোশী নদীর পানি আবার বাড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের নতুন করে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য তাদের কাছে আসেনি। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, দূতাবাস বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।
দূতাবাসের কাউন্সেলর মো. শোয়েব আবদুল্লাহও জানিয়েছেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো মূলত কৈলাস-মানস সরোবর যাতায়াতের পথে। বাংলাদেশি পর্যটকেরা সাধারণত ওই পথে যান না। দুর্যোগের শুরুর দিকে কাঠমান্ডু, পোখারা ও নাগরকোটের মতো বাংলাদেশিদের পরিচিত পর্যটন গন্তব্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথাও জানিয়েছিল দূতাবাস।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত বৃহস্পতিবার নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সে সময় তিনিও কোনো বাংলাদেশির হতাহতের খবর না পাওয়ার কথা জানান এবং কোনো বাংলাদেশির বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে জানাতে নেপাল সরকারের সহযোগিতা চান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ প্রয়োজন হলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)