নেপাল-চীনে 'ফ্লাশ ফ্লাড-ভূমিধস' নিহত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ এএম
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৭০০-তে পৌঁছেছে। দুই দেশে এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক শ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে বন্যা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
দুর্যোগে নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নেপালকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার কথা জানিয়েছিল।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে নেপালি ও বিদেশি নাগরিক মিলিয়ে ৭৫৩ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে আটকে পড়া ৮৮ জন ভারতীয়কে এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ২৮৭ জন ভারতীয় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চার ভারতীয় নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষায় সহায়তার জন্য ভারতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাঠমান্ডুতে যাওয়ার কথা রয়েছে। উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
অন্যদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। চীনে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
এর আগে চীনে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৪ জন বলে জানানো হয়েছিল। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে বন্যা দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশেই উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে মৃত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে আরও বাড়তে বা পরিবর্তিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)