নেপাল ফ্লাশ ফ্লাড-ভূমিধস: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ এএম
সংগৃহীত ছবি
নেপালে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পুলিশের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, সকাল ৬টা পর্যন্ত চিতওয়ানে ২৩৩টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি, গোর্খায় ৪৮টি, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৪৭টি, ধাদিংয়ে ৪৫টি, নুয়াকোটে ৪১টি, তানাহুনে ৩১টি এবং রসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এলাকাতেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধান এবং বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে ভেসে আসা আবর্জনা ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কার করে যোগাযোগব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চলছে। ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত পৌঁছে দিতে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে রাসুয়া জেলার তিমুর ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক প্রবল বন্যা দেখা দেয়। নদীর পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীতীরবর্তী জনপদে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বন্যার পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীতেও প্রবাহিত হয়।
প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। বন্যার পানির সঙ্গে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ ভাটির বহু দূরের এলাকাতেও পৌঁছেছে। দুর্গত কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বিদেশি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। তবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে সহায়তার অনুমতি দেওয়ার জন্য নেপাল সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, ধ্বংস হওয়া সেতুর কারণে বিচ্ছিন্ন এলাকায় যোগাযোগ পুনঃস্থাপন, মরদেহ শনাক্ত, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো বিশেষায়িত কাজে নেপালের বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কারিগরি সক্ষমতার ঘাটতি থাকায় ইতোমধ্যে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বন্যায় নেপালের প্রায় দুই ডজন সেতু ধ্বংস হয়েছে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ভারত ও চীনের কাছে বেইলি সেতু চেয়েছে নেপাল। উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো পুনর্গঠন এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)