নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার শঙ্কায় উদ্ধারকাজ বন্ধ করল চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবিঃ বিবিসি
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই একই এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি প্রাকৃতিক ‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় তিব্বতে তিন দিনের জন্য উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে দেশটি।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন শনাক্ত হওয়া হ্রদটির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ সাধারণত নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক কোনো বাধায় আটকে গেলে সৃষ্টি হয়। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে যে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা হয়েছিল, তার পেছনেও এমন একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তুষারধসের ফলে নেপাল-চীন সীমান্তের ভোতি কোশি নদীর শাখা লেহেন্দে নদীর একটি অংশে হ্রদ তৈরি হয়। পরে পানির প্রবল চাপে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ভোতি কোশি নদীতে নেমে আসে। এর ফলে নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
ভয়াবহ ওই বন্যায় রাসুয়া ও গিরং এলাকায় প্রায় ৫০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হড়পা বানের স্রোতে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
নতুন ব্যারিয়ার হ্রদটির অবস্থান ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদটির আরও উজানে। তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে হ্রদটির অবস্থান বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে।
চীনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে হ্রদটিতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে। এতে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে নতুন করে বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদের পানির স্তর ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা গ্রামগুলো এরই মধ্যে খালি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং ও চেংদু থেকে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রেখে সম্ভাব্য বন্যার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছে চীন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)