মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরছে রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ছবিঃ রয়টার্স
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের প্রায় ৫ হাজার নাগরিককে ধাপে ধাপে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে প্রত্যাবাসন কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৪৭৬ জনের পরিচয় মিয়ানমার সরকারের ১৩ আগস্টের কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায় প্রত্যাবাসনের তারিখও অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রথম ধাপের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শরণার্থী হিসেবে দাবি করা মিয়ানমারের ৪ হাজার ৮ নাগরিককে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ (ডিপিপি) নামের শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হবে। একই সময়ে আরও ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক আটক ছিলেন। তবে তাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন পরিস্থিতি, শরণার্থী দাবি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে। এই যাচাই কার্যক্রম ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপিপির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের ‘ডিপিপি কার্ড’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত শর্ত ও নজরদারির আওতায় তারা সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় থাকার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে সম্মত এবং প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত, তাদের শনাক্ত করে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের নিবন্ধন এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের ৯৫ শতাংশের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা, চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। এ কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের সম্মতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং মর্যাদাপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)