Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

নেপালে ফ্লাশ ফ্লাড-ভূমিধসে নিহত ৪৬৯, নিখোঁজ হাজারো

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

নেপালে ফ্লাশ ফ্লাড-ভূমিধসে নিহত ৪৬৯, নিখোঁজ হাজারো

ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পরও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালি সংবাদমাধ্যম *কাঠমান্ডু পোস্ট* এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার উত্তর নেপালের রসুয়া ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে হঠাৎ করে প্রবল স্রোতের সাথে পানি ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে যায়। অনেক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

বন্যার পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর প্রবাহপথ, তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহত ও নিখোঁজের তথ্য এখনো সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে দুর্যোগের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক ও ট্রেকারদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নেপাল পর্যটন বোর্ড বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।

নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাইয়ে নেপাল পর্যটন বোর্ডের পাশাপাশি সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। উদ্ধার তৎপরতায় ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো এবং আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সাথে স্থলপথে উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তীর ও নিম্নাঞ্চলের বসতিগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্যার পানির সাথে ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্গত মানুষের কাছে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হঠাৎ করে নেমে আসা এই ভয়াবহ বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই প্লাবনটি শুরু হয় এবং দ্রুত ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও খুব সীমিত ছিল।

মন্তব্য করুন