Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারে স্থগিতাদেশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারে স্থগিতাদেশ

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশে থাকা দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কারণে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। তবে এ কার্যক্রম কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও ধারাবাহিকভাবে যাচাই করা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরশীল ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে।

এর আগে *ফিন্যান্সিয়াল টাইমস* জানিয়েছিল, বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা আবেদনকারীদের ই-মেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলেও তাদের অবহিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে গত কয়েক মাসে ব্যাপক কঠোরতা দেখা গেছে। ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল, আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই এরই অংশ। রাজনৈতিক মতামত কিংবা গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেও কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবও পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিবছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। প্রস্তাবটিকে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে থাকার চেষ্টা করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আইনি ও মানবাধিকারভিত্তিক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার একটি নীতি বাতিল করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কিছু পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি ও হয়রানির ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তাঁর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থাতেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের উদ্যোগও এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন