ইসরাইল স্বীকৃতি পেলেই কার্যকর হবে সৌদি পারমাণবিক চুক্তি: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবিঃ সংগৃহীত
সৌদি আরবের সাথে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটি ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে। তবে সৌদি আরব ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত চুক্তি কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবিত চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ এবং এপি১০০০ রিয়্যাক্টর নির্মাণের সুযোগ পাবে। কয়েক হাজার কোটি ডলারের এ প্রকল্পে ওয়েস্টিংহাউসসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বড় পারমাণবিক প্রযুক্তি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
চুক্তিটি এখন মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য ৯০ কার্যদিবস সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেস কোনো আপত্তি না জানালে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। অন্যদিকে কংগ্রেস চুক্তিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।
সৌদি আরবকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ ও ২০২১ সালে মার্কিন মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। ট্রাম্প ও পরবর্তী বাইডেন প্রশাসনও সৌদি আরবকে ওই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ওই বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আলোচনা স্থবির হয়ে যায়। সৌদি আরবের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
এদিকে সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের করা পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওই ব্যবস্থাকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিতে একই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে রিয়াদ পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে চুক্তিটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক এবং পারমাণবিক বিস্তার নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)