লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকারে হুথির হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ছবিঃ আরব নিউজ
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী। ‘আমজান’ নামের ট্যাংকারটি ইয়ানবু বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ঘোষিত ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতির অংশ হিসেবেই ট্যাংকারটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এই নীতির আওতায় সৌদি আরবের জাহাজ ও দেশটির সংশ্লিষ্ট স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানিয়েছে হুথিরা।
হুথিদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম নেওয়ার সময় একটি বড় সামরিক বহরেও হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এতে ১০টির বেশি অস্ত্রবাহী ট্রাক পুড়ে বা ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক আরেকটি হামলায় সৌদি সেনাসদস্য ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবকে ঘিরে তিনটি লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’, সৌদি সেনা সমাবেশের এলাকায় হামলা এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনাও অন্তত চারবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ইরান হুথিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তুলনামূলকভাবে প্রকাশ্য সমর্থনমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়তে পারে।
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরব তার কিছু তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের পরিবর্তে উত্তরের দিকে মিশর ও সুয়েজ খাল হয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি তেলবাহী জাহাজে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তন করতে হতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে জাহাজের বীমা ও পরিবহন ব্যয়। এতে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)