Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ এএম

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

সংগৃহীত ছবি

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। একই সাথে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। শান্তি আলোচনা থমকে থাকার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন বেসেন্ট।

সাংবাদিকদের বেসেন্ট বলেন, ইরানের সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেসব পথ বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, এটি ইরানের সরকারের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, যারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করবে না, তাদেরও ইরানের মতো বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে হতে পারে।

বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে ফোনে কথা বলে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। নতুন করে বাড়ানো সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন খাতকে লক্ষ্য করা হবে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয়, অস্ত্র সংগ্রহ ও সাইবার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

ইরানের পক্ষে অর্থ পাচারে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বেসেন্ট। চীনের ব্যাংকগুলোও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, দেশটি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার চাপ সামাল দিতে সরকারের দুই বছরের একটি পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরান এসব বিধিনিষেধ এড়াতে জটিল আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগেও দেশটি প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, যার বড় অংশের গন্তব্য ছিল চীন।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রণালীটি দিয়ে ইরান প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা কমে প্রায় ৪ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। সোমবার ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বা ইরানের আশপাশে সামরিক হামলার সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্র এখনো উড়িয়ে দিচ্ছে না।

মন্তব্য করুন