মালয়েশিয়ায় নেপালি কর্মী নিয়োগে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবিঃ সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় নেপালি শ্রমিক নিয়োগে নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালে নেপালের প্রায় ১ হাজার ২০০টি লাইসেন্সধারী জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৫টিকে ‘রেজিস্টার্ড রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় দেশটির বিদেশি কর্মসংস্থান খাতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
নেপালের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে চলা সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থার ফলে বৈধভাবে পরিচালিত ১ হাজার ১৭৫টির বেশি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে কার্যত বাদ পড়বে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী দরিদ্র শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বাড়বে এবং শোষণের সুযোগও তৈরি হবে।
এর আগে নেপালের সব লাইসেন্সধারী জনশক্তি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ পেত। নতুন ব্যবস্থায় কেবল ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ায় মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদেরও শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।
নেপাল ফরেন এমপ্লয়মেন্ট এন্ট্রাপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিক বাহাদুর খত্রি এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, নেপালের আইন ও বিধি মেনে বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার সুযোগ এভাবে সীমিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৫টিকে তালিকাভুক্ত করা সরাসরি একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি করবে। এতে সুস্থ প্রতিযোগিতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের আর্থিকভাবে শোষণের ঝুঁকি বাড়বে।
এদিকে মালয়েশিয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নেপালের যুব, কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার পোর্টালে বৈষম্যমূলক তালিকা প্রকাশ এবং সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে একই দিন নেপালে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফিরদাউস আজমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেছে মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে নেপালের শ্রমমন্ত্রী মালয়েশিয়া সরকারকে দুই দেশের বিদ্যমান শ্রমচুক্তি ও প্রচলিত কূটনৈতিক রীতির বাইরে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানান। নেপাল সরকার মনে করে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও শ্রমিকবান্ধব এবং সব বৈধ প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পিতাম্বর ঘিমিরে জানান, নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থা কোনো বাধা ছাড়াই চালু রাখা এবং সিন্ডিকেট তৈরির যেকোনো উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক ও পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় নেপালি কর্মী নিয়োগে নতুন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর করা যাবে না বলেও নেপাল স্পষ্ট করেছে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ পেলে তারা ইচ্ছামতো অর্থ আদায়ের সুযোগ পেতে পারে। ফলে শ্রমিক নিয়োগে ‘জিরো-কস্ট’ নীতি কাগজে থাকলেও বাস্তবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ কারণে শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
২০১৮ সালে নেপাল ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রমচুক্তিতে নেপালি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ ও ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নেপালের ব্যবসায়ীদের মতে, মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো সিদ্ধান্ত দেশটির প্রচলিত শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। এদিকে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নেপালি কর্মী পাঠানোর বিষয়টি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)