Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

‘চিকেনস নেকে’ নিরাপত্তা গ্রিড তৈরির ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

‘চিকেনস নেকে’ নিরাপত্তা গ্রিড তৈরির ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘চিকেনস নেকে’ নিরাপত্তা গ্রিড তৈরির ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার (২০ আগস্ট) শিলিগুড়ি সফরে গিয়ে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি রুপি ব্যয়ে বিভিন্ন আবাসিক ও প্রশাসনিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তাও উপস্থিত ছিলেন।

অমিত শাহ বলেন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গড়ে তোলা হয়েছে। এর আওতায় চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি ঘাঁটি থেকে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

করিডোরের নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠামোর জন্য প্রায় ৫৬০ একর জমি প্রয়োজন হলেও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে তা পাওয়া যায়নি। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবির জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে ১ হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বাকি ২৯ একর জমির অনুমোদনও দ্রুত দেওয়া হবে বলে জানান অমিত শাহ।

নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ৬ হাজার ৮৩৯ কোটি রুপি ব্যয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডোর বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে কয়েক ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন