ছবিঃ সংগৃহীত
ইউক্রেইনে রাশিয়ার একাধিক হামলায় নতুন করে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ক্রিভি রিহ শহরের একটি ব্যস্ত শপিং মলে শুক্রবারের জোড়া ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। ধ্বংসস্তূপে এখনো নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে রাজধানী কিইভের দারনিতস্কি এলাকায় একটি গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার ক্রিভি রিহের শপিং সেন্টারে পরপর দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্ডার হানঝা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধারের পর ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৬ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ নয়জনের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
হামলায় অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ শিশু রয়েছে এবং ২৯ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ইউক্রেইনের আরও চার অঞ্চল থেকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার নিজ শহর ক্রিভি রিহতে দিনের বেলায় চালানো হামলাকে ‘একেবারেই নিষ্ঠুর ও নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, হামলাটি দুই দফায় চালানো হয় এবং দ্বিতীয় দফায় জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুক্রবার মাইকোলাইভ অঞ্চলে পৃথক রুশ হামলায় চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু। খারকিভ অঞ্চলেও আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার কিইভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হন।
অন্যদিকে ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে একটি তেল শোধনাগার ও সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেইনের হামলাও বেড়েছে। কিইভ এসব স্থাপনাকে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়ক হওয়ায় বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে মস্কো বর্তমানে ইউক্রেইনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)