Logo
×

Follow Us

বিনোদন

টেইলর সুইফটের স্বামীর সাথে প্রতারণা

বিনিয়োগ জালিয়াতিতে সিদ্ধার্থের ১১ বছরের কারাদণ্ড

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

টেইলর সুইফটের স্বামীর সাথে প্রতারণা

ছবিঃ এন ডি টিভি

বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করে আত্মসাৎ, বিলাসী জীবনযাপন এবং আগের বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধে তা ব্যবহার করার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগ উপদেষ্টা সিদ্ধার্থ জাওহারকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সিদ্ধার্থের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকান ফুটবল তারকা ট্র্যাভিস কেলসি, যিনি সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটের স্বামী। আদালতে শুনানির সময় কৌঁসুলি তার নাম উল্লেখ করেন। তবে কেলসির বিনিয়োগের পরিমাণ বা নির্দিষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

মিসৌরি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। এর বিপরীতে তিনি প্রকৃত বিনিয়োগ করেছিলেন আনুমানিক ১০ মিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জ্যাকারি এম. ব্লুস্টোন এক আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৩১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। বিচারক এই প্রতারণাকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সুযোগ নিয়ে সিদ্ধার্থ জালিয়াতি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত না দেওয়ার বিষয়টিও তার সাজা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালে সিদ্ধার্থ ‘সুইফটআর্ক ক্যাপিটাল এলএলসি’ নামে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে বিভিন্ন শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলেও ২০১৫ সাল থেকে গ্রাহকদের প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্থ একটি প্রতিষ্ঠান—‘ফিলিপ মরিস পাকিস্তান (পিএমপি)’-এর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে থাকেন।

পরবর্তী সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও বিনিয়োগকারীদের তা জানাননি সিদ্ধার্থ। বরং শেয়ারের মূল্য বেশি দেখিয়ে ভুয়া লভ্যাংশের তথ্য সরবরাহ করতেন। পরে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া অর্থ দিয়ে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের কৌশল নেন, যা পনজি বা পিরামিড স্কিম হিসেবে পরিচিত।

বিনিয়োগকারীদের অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিমান, বিলাসবহুল হোটেলে থাকা, অস্টিন ও নিউইয়র্কে দামি অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিলাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয় করেন তিনি।

২০২২ সালের জুনে টেক্সাস স্টেট সিকিউরিটিজ বোর্ড সিদ্ধার্থের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করে এবং সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গোপন রেখেই তিনি নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ চালিয়ে যান। এমনকি নিষেধাজ্ঞার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে আরও ১ মিলিয়ন ডলার নেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সেন্ট লুইসের একটি গ্র্যান্ড জুরি সিদ্ধার্থের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনে। পরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি। এরপর আদালত তাকে ১১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

মন্তব্য করুন