Logo
×

Follow Us

বিনোদন

কেন হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আশির দশকের নস্টালজিয়া

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

কেন হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আশির দশকের নস্টালজিয়া

সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আশির দশকের আবহ। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নিজেদের ছবি সাজাচ্ছেন কয়েক দশক আগের সময়ের আদলে। পুরোনো দিনের পোশাক, চুলের স্টাইল, ঘরবাড়ির সাজসজ্জা কিংবা সেই সময়ের গান—সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে তৈরি হয়েছে আশির দশকের এক নস্টালজিক আবহ।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে উঁচু কোমরের প্যান্ট, শাড়ি, বড় ফ্রেমের চশমাসহ আশির দশকের জনপ্রিয় ফ্যাশন। ছবির পটভূমিতেও যোগ করা হচ্ছে কাঠের শোকেস, ভারী টেলিভিশন, মোজাইক মেঝে, পুরোনো স্কুটার কিংবা অ্যাম্বাসেডর গাড়ির মতো উপকরণ। ছবিগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত করতে অনেকেই দানাদার আবহ, হালকা ঝাপসা ভাব ও বিবর্ণ রঙ ব্যবহার করছেন, যাতে মনে হয় সেগুলো পুরোনো কোনো অ্যালবাম থেকে তুলে আনা।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রবণতার পেছনে মানুষের স্বাভাবিক নস্টালজিয়া বড় ভূমিকা রাখছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ বি নায়ারের মতে, কর্মক্ষেত্রের চাপ, পড়াশোনা, সম্পর্কের জটিলতা ও আর্থিক দুশ্চিন্তায় ভরা বর্তমান জীবন থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে মানুষ অনেক সময় অতীতের স্মৃতিতে ফিরে যায়।

বিশেষজ্ঞরা এ প্রবণতার সঙ্গে ‘রোজি রেট্রোস্পেকশন বায়াস’-এরও সম্পর্ক দেখছেন। এর অর্থ হলো, মানুষ অনেক সময় অতীতকে বাস্তব অভিজ্ঞতার তুলনায় বেশি সুন্দর করে মনে রাখে। সময়ের সাথে অতীতের কষ্টকর বিষয়গুলো স্মৃতি থেকে কিছুটা ম্লান হয়ে যায়, বিপরীতে সুখকর ঘটনাগুলো বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে পুরোনো সময়কে বর্তমানের তুলনায় আরও শান্ত ও সুখের বলে মনে হতে পারে।

সমাজবিজ্ঞানী জ্যোতি এস নায়ারের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুতগতির জীবনে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি আন্তরিক যোগাযোগ ও আপন অনুভূতি খুঁজছে। এ কারণে অতীতের সময় অনেকের কাছে তুলনামূলকভাবে ধীর, পরিচিত ও মানুষের কাছাকাছি বলে মনে হয়।

তবে আশির দশকের এই নস্টালজিয়া শুধু ওই সময়ে বেড়ে ওঠা মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যেই নিজের সময়কে ভালো মনে করার প্রবণতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন আশির দশক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে। আর কয়েক বছর পর হয়তো ২০২৬ সালের জীবনযাপন, ফ্যাশন ও প্রযুক্তিকেও একইভাবে কেউ ‘সোনালি সময়’ হিসেবে ফিরে দেখবে।

মূলত বর্তমানের নানা জটিলতা ও দ্রুতগতির জীবন থেকে মানসিকভাবে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অতীতের প্রতি মানুষের সহজাত টান এবং এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আশির দশকের এই নতুন নস্টালজিয়া তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

মন্তব্য করুন