আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। তবে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নের সময়সীমা ও ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জের সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সাথে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে দেশের জ্বালানি খাতে ব্যয়ের চাপ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। এ চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।
আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সাথে আলোচনা চলছে। একসাথে একাধিক সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ না নিয়ে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায় সরকার। আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন ঘাটতি পূরণে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ কঠিন হওয়ায় আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে। একই সাথে বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জ্বালানি খাতে সহায়তার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও চাপ কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সংস্থাটির সহযোগিতা চায় সরকার।
রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সাথে দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)