বাড়ছে ইলিশের সরবরাহ
দীর্ঘদিনের ইলিশের সংকট কাটতে শুরু করেছে। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মোকামে নদী ও সমুদ্র থেকে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। মাছের পরিমাণ বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও। ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ধারণা, আগামী সপ্তাহে সরবরাহ আরও বাড়লে ইলিশের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
ভোলার সামরাজ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ মণ ইলিশ আসছে। সরবরাহ বাড়ায় সেখানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় এখন কেন্দ্রটিতে ইলিশভর্তি ট্রলারের আনাগোনাও বেড়েছে।
সামুদ্রিক ইলিশের বড় মোকাম মহিপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও সরবরাহ বেড়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ মণের বেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ এখন প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য আড়তেও বেড়েছে নদীর ইলিশের সরবরাহ। গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ মাছ বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৯০ হাজার টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ২ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। একই মাছের দাম এক সপ্তাহ আগেও ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি।
পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সভাপতি জহির সিকদার জানান, বৃহস্পতিবার সেখানে ২২০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে। আগে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ মণের বেশি মাছ আসত না। বর্তমানে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ৯৯ হাজার টাকা থেকে কমে ৭০ হাজার এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ৮৫ হাজার থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
জহির সিকদারের আশা, আগামী সপ্তাহে সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে বাজারে ইলিশের দাম আরো কমে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি আসতে পারে।
মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস জানান, সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ মণ সামুদ্রিক ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও এর অর্ধেক পরিমাণ মাছও আসত না। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ এখন প্রতি মণ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে আগে দাম ছিল এক লাখ টাকার বেশি।
আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রহিম খান বলেন, বর্তমানে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তারেক আজিজ জানান, প্রত্যাশার চেয়ে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও দ্রুত কমেছে। সেখানে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ এখন ৭৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ মাছ বাজারের ক্রেতা শ্যামল সরকার জানান, তিনি ৮০০ গ্রাম ওজনের তিনটি ইলিশ কিনেছেন। প্রতি কেজিতে দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। কয়েক দিন আগেও একই আকারের ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি।
মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলেদের জালে আরো বেশি ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্র থেকেও পর্যাপ্ত মাছ আসছে। ফলে আপাতত ইলিশের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)