Logo
×

Follow Us

অর্থনীতি

রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

রুপির বিপরীতে শক্তিশালী টাকা

এ আই দিয়ে তৈরি

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া গেছে প্রায় ০ দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। ২০২৫ সালের একই দিনে পাওয়া যেত প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি এবং ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭০ রুপি। অর্থাৎ এক বছরে রুপির বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

অন্য হিসাবেও টাকার শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট। ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির দাম ছিল প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ এক রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম খরচ হচ্ছে। ২০২৪ সালের একই দিনে এক রুপির দাম ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ০ দশমিক ৭৮১ থেকে ০ দশমিক ৭৮২ রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচ অপরিবর্তিত থাকলে শক্তিশালী টাকা দিয়ে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে। এতে ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্প উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারকেরা সুবিধা পেতে পারেন।

টাকার মূল্য বাড়ার প্রভাব ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী থাকলে দেশটিতে আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ স্থানীয় খরচ বাংলাদেশি মুদ্রায় তুলনামূলক কম পড়তে পারে।

তবে বিনিময় হার কমার প্রভাব সরাসরি পণ্যের বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের ওপর। একইভাবে বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয়ও শুধু মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই টাকা-রুপির পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে স্থিতিশীলতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন