২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাবে বাংলাদেশ: তিতুমীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার রাতে রাজবাড়ীর কলিমহড় গ্রামে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসকূপ খনন, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় গ্রাহকদের শুধু ভোক্তা হিসেবে না দেখে উৎপাদনের সাথে যুক্ত করা গেলে সংকট মোকাবিলায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহক নিজের প্রয়োজনের বিদ্যুৎ নিজেই উৎপাদন করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে অতীত সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সংকটকে আরও জটিল করেছে। সরকারের অতিরিক্ত দামে গ্যাস কেনার কারণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলক সহজ ও কম ব্যয়বহুল উল্লেখ করে তিতুমীর জানান, দেশে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব কাজে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ রয়েছে।
পানি সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনাকেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে সরকার। তিতুমীর বলেন, নদীতে প্রয়োজনীয় পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যেই একনেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে।
উজানের পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ৫৪টি নদীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের মূলনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল গঠন করেছে। দলটি শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতকে অবহিত করবে বলে জানান তিতুমীর।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)