হংকংয়ের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
ছবি: পিআইডি
হংকংয়ের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ করে তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সাথে বৈঠকে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ আরো বাড়াতে হবে। এ জন্য আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ উন্নতমানের ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছাতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ ও বিটুবি ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি।
পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ভর্তুকি বা বিনা মূল্যে স্টল দেয়ার সুযোগ এবং ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান এইচকেটিডিসির নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চং। তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উল্লেখ করেন।
বৈঠক শেষে হংকংয়ের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পণ্য ও খাত যুক্ত করে হংকংয়ে রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশটির সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)