বাংলা কিউআরে সপ্তাহে লেনদেন ৭০০ কোটি ছাড়াল
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দেশে অভিন্ন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে এই কিউআর ব্যবস্থায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। ফলে সাপ্তাহিক লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৭০০ কোটি টাকা।
লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ—দুই ক্ষেত্রেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে পৌঁছায়। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা থেকে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে। এতে বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও একই কিউআর কোডে অর্থ গ্রহণের সুযোগ পান।
বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত যেখানে প্রায় ১৬ লাখ ব্যবসায়ী এ ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে এই লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। লেনদেনের এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য।
বাংলা কিউআর ব্যবহারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে থাকা কিছু উদ্বেগ দূর করতেও কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমাণও বাড়তে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, একটি কোড স্ক্যান করেই বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যায়। এতে গ্রাহকদের জন্য যেমন লেনদেন সহজ হয়েছে, তেমনি নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন ও ঝুঁকিও কমেছে।
রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা তুহিন ইসলাম বলেন, আগে দোকানে কোন ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার কিউআর কোড রয়েছে, তা দেখে টাকা পরিশোধ করতে হতো। এখন একটি বাংলা কিউআর স্ক্যান করেই নিজের পছন্দের হিসাব থেকে অর্থ দেওয়া যাচ্ছে। ফলে লেনদেনের সময় আগের মতো বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না।
রাজধানীতে পাইকারি পণ্য কিনতে আসা মাহিন হোসেনও বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে সুবিধাজনক মনে করছেন। তার মতে, আগে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে চলতে হতো, যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এখন কিউআর স্ক্যান করে সহজেই অনলাইনে মূল্য পরিশোধ করা যায়।
মতিঝিলের ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম জানান, তার দোকানে তুলনামূলক দামি ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্যের বড় অঙ্কের টাকা নগদে গ্রহণ করা অনেক সময় ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এখন দ্রুত ও সহজে অর্থ নেওয়া যাচ্ছে।
আজিমপুরের জুস বিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, অনেক ক্রেতার কাছে খুচরা টাকা না থাকায় আগে প্রায়ই সমস্যা হতো। বাংলা কিউআরে টাকা দেয়ার সুযোগ থাকায় এখন সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলা কিউআর শুধু ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণই বাড়াচ্ছে না, বরং দৈনন্দিন কেনাবেচায় নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতাও কমিয়ে আনছে। একই কিউআর কোডে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের সুবিধার কারণে দেশে নগদবিহীন লেনদেনের প্রসার আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)