Logo
×

Follow Us

অর্থনীতি

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে পাটের বাজার ৫৪৯ কোটি টাকা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে পাটের বাজার ৫৪৯ কোটি টাকা

ছবিঃ বাসস

চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হিসাবে, এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪৯ হাজার টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে এ পাট থেকে প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।

ডিএই সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাট চাষের জমি বেড়েছে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর।

গত মৌসুমে জেলায় ৪৮ হাজার ৬৭৭ টন পাট উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ ৪৯ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ডিএইর সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ৮২ শতাংশ জমির পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৪৮ হাজার ২০০ টন পাট পাওয়া গেছে। বাকি ১৮ শতাংশ জমির কাজ শেষ হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমজুড়ে পর্যাপ্ত ও সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বৃষ্টিপাত পাট পচানো ও ধোয়ার কাজও সহজ করেছে। পাশাপাশি কৃষকদের পরিচর্যার কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পাটের বাজারদরও এবার কৃষকদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ টাকা ধরে হিসাব করলে জেলায় প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকার পাট লেনদেন হতে পারে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, সরকারি প্রণোদনা এবং সময়মতো উন্নতমানের বীজ ও সার পাওয়ায় চলতি মৌসুমে পাট চাষ ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। বর্তমান দর ধরে পাট বিক্রি হলে জেলায় প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজশাহী পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাদিম আক্তার জানান, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৬ কুইন্টাল পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ উৎপাদন প্রায় ২১ হাজার কুইন্টাল বেশি।

ভালো ফলন ও বাজারদরে খুশি পাট চাষিরাও। বাঘার মনিগ্রাম এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ছিল। তবে এবার ফলন ও দাম দুটোই ভালো হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের আশা করছেন তিনি।

মোহনপুরের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট পচানো ও ধোয়ার কাজ এবার তুলনামূলক সহজ হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় পরিবারের খরচ মিটিয়ে কিছু অর্থ সঞ্চয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

পবা উপজেলার কৃষক রবিউল ইসলাম চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের পাট চাষ করেছেন। তাঁর মতে, এবার পাট চাষে লাভ ভালো হচ্ছে। তবে শ্রমিকের উচ্চ মজুরি এবং পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বাগমারার কৃষক সাইদুর রহমান ও চারঘাটের কৃষক হৃদয়ও পাটের বর্তমান দামে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশা, ভালো দাম অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে আরও কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হবেন।

রাজশাহীর পাট শুধু স্থানীয় বাজারেই বিক্রি হচ্ছে না। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পাটের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা থাকায় রাজশাহী থেকে সংগৃহীত পাটের একটি অংশ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখছে জেলার পাট।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভালো বাজারদর গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকার পাটের লেনদেন স্থানীয়ভাবে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে পারে।

তবে পাটের বাড়তি উৎপাদন ও দামের সুফল কৃষকদের কাছে আরও বেশি পৌঁছে দিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো, সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা জোরদার এবং সরকারি অর্থায়নে গুদামজাতকরণ সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন