ভেজাল দুধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দুধে ভেজাল মেশানো এবং তা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দুধে ভেজাল মেশানো জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ভেজাল দুধ প্রতিরোধে দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। অথচ এতে ভেজাল মিশিয়ে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, দেশের দুগ্ধ উৎপাদন ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সম্প্রতি জেলার দুধ উৎপাদন ও সরবরাহে ভেজালের অভিযোগ উদ্বেগ তৈরি করেছে। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির কারণে একদিকে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পাবনার দুগ্ধশিল্পের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর নয়। খামারি, দুধ সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই দুধে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, দুধের গুণগত মান বজায় রাখতে পাবনার বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। দুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সভার আগে তিনি পাবনার চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায় প্রাণ গ্রুপ এবং ফারুক চিলিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় প্রাণ গ্রুপের চিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, দুধের গুণগত মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই দিন পাঁচটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসা দুধ ফেরত দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দুধে ভেজাল প্রতিরোধে উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, পাবনা দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার হাজার হাজার সৎ ও পরিশ্রমী খামারির সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ভেজাল দুধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দুধের গুণগত মান পরীক্ষা এবং ভেজাল শনাক্ত করার জন্য পাবনায় একটি স্থায়ী পরীক্ষাগার স্থাপন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পাবনা জেলা সভাপতি, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, পাবনা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দুগ্ধ খামারি, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ভেজাল দুধ প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ দুধ সরবরাহ এবং পাবনার দুগ্ধশিল্পের সুনাম রক্ষা করা সহজ হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)