Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

তাজমীন হত্যা মামলায় সুমনের অতীত নিয়ে যা জানা গেল

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ এএম

তাজমীন হত্যা মামলায় সুমনের অতীত নিয়ে যা জানা গেল

তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন মিয়া

কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার অতীত জীবন ও মাদকাসক্তির নানা তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনের কারণে পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তার। একপর্যায়ে স্ত্রী-সন্তান থেকেও আলাদা হয়ে যান তিনি।

পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। নিজের বাড়িঘর বিক্রি করে দেওয়ার পর সেখানেই থাকতেন তিনি।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ আরো জানায়, সুমন নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে শ্বশুরবাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র একে একে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে স্ত্রী-সন্তান থেকে আলাদা হয়ে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করতেন সুমন।

পুলিশের তদন্ত ও সুমনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামেন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমীন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। শর্টকাট পথে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সুমন তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাজমীন চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে সুমন তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা দিলে ধানখেতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণের পর মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে তাজমীনকে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এরপর তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান সুমন। পরে ফোনটি একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে তাজমীনের আইফোন উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সুমন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন