সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটির সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংগঠন দুটি অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আগে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক বেরিয়ে যান।
সকাল ৬টা থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং ও অবরোধ করেন সংগঠন দুটির সমর্থকেরা। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সকালে সাজেকে নতুন করে পর্যটক প্রবেশ করতে পারেননি। একই সাথে অনেক পর্যটক সেখানে আটকা পড়েন।
দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ এসকর্টের সহায়তায় আটকে পড়া পর্যটকেরা সাজেক ত্যাগ করেন। একই সময়ে ৫৮টি চাঁদের গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করে। এসব যানবাহনে প্রায় এক হাজার পর্যটক সেখানে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকেরা সাজেক ছেড়েছেন। পাশাপাশি পর্যটকবাহী বেশ কিছু গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করেছে। তবে নতুন করে প্রবেশ করা পর্যটকের সঠিক সংখ্যা তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সাজেকে কোনো পর্যটক আটকা নেই। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকও চলছে।
সংগঠন দুটি জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেয়া, স্থানীয়দের হুমকি-ভয়ভীতি বন্ধ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল।
এর আগে ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোর বাজারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেন।
পরে রবিবার সন্ধ্যায় সংগঠন দুটি ১২ ও ১৩ অক্টোবর—এই দুই দিনের জন্য অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেক এলাকায় বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের প্রভাব রয়েছে। তবে সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও অবস্থান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দাবি রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচ্য।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)