গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি ঘোষণার আড়ালে বন্দরে মিলল বিএমডব্লিউ রেসিং কার ও ৫ ট্রাক
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণায় আমদানি করা একটি BMW স্পোর্টস কার, বিলাসবহুল BMW 740i-এর সামনের অংশ এবং পাঁচটি Isuzu ট্রাকের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইডিআই)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহজনক একটি চালানের কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। চালানটিতে ঘোষিত পণ্যের সাথে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের কোনো মিল ছিল না।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, হালিশহরের মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি থেকে চালানটি আনে। এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ছিল ডবলমুরিংয়ের আমিন সিঅ্যান্ডএফ (প্রাইভেট) লিমিটেড।
চালানের বিল অব লেডিংয়ে ‘ইউজড ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি’ ও ‘ইউজড পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি’সহ সাধারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ দেখানো হয়েছিল। তবে কন্টেইনার খুলে পরীক্ষার পর ভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।
কন্টেইনারে সম্পূর্ণ নকডাউন অবস্থায় দুই আসনের একটি BMW স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটি ২০০৯ সালের BMW S Drive 23i মডেলের বলে ধারণা করছে কাস্টমস গোয়েন্দা। এর ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের মডেলের BMW 740i-এর সামনের অংশ বা হাফ-কাট পাওয়া গেছে। প্রায় ৩ হাজার সিসি ইঞ্জিনের এই বিলাসবহুল গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চালানটিতে ঘোষণা-বহির্ভূত পাঁচটি হাফ-কাট Isuzu ট্রাকও পাওয়া গেছে। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, আমদানি নীতি এড়িয়ে গাড়ি বা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আলাদা চালানে এনে পরে সেগুলো পুনঃসংযোজনের কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এ কারণে BMW 740i-এর বাকি অংশসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চালানের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির পাশাপাশি চেসিস ও ভিআইএন নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য, প্রকৃত মূল্য এবং শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হবে। এরপর কাস্টমস অ্যাক্ট, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধ গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানির চেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)