নিউগিনি প্রপার্টিজের নাজিমউদ্দিনকে ঘিরে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
সংগ্রিহিত ছবি
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে আরজু। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজিমউদ্দিন।
গত শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য স্টুডিওটি ছিল না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।
জানা গেছে, সম্প্রতি নাজিমউদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টুডিও পরিচালনা করছিলেন সালমান মুক্তাদির। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় নাজিমউদ্দিন তিনটি নতুন গেট নির্মাণ করায় আশপাশের জমির মালিকদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। এ নিয়ে বিরোধের পর কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে গেট ভাঙতে গেলে ভুলবশত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হয় বলে জানা গেছে।
নাজিমউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে। প্রায় ২০১০ সালের দিকে ঢাকায় এসে রামপুরার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। পরে ভাসানটেক এলাকায় ভাঙারি ও থাই গ্লাসের ব্যবসায় জড়ান।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আবাসন ব্যবসায় প্রবেশ করে নিউগিনি প্রপার্টিজ প্রতিষ্ঠা করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি আব্বাসের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি জমি দখলের কার্যক্রমে যুক্ত হন। একসময় নিজেকে গোসান আজাদ ইউনিট আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবেও পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, কমিটিতে নাজিমউদ্দিনের কোনো পদ নেই।
রাজধানীর জোয়ার সাহারায় জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই এলাকায় প্রায় ১৪ বিঘা জমি তার দখলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমির মধ্যে কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বেসরকারি কর্মকর্তার জমিও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই রাজধানীর মানিকদীতে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অভিযান চালানোর সময় কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শেখ আতিফ হোসেন ইমান থানায় মামলা করেন।
বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে নাজিমউদ্দিনের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। এসব প্রতিবেদনে জোয়ার সাহারা ও বাউনিয়ায় কয়েক বিঘা জমি, মিরপুর ডিওএইচএসে ফ্ল্যাট এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান এবং মালয়েশিয়ায় দোকান ও তেলের পাম্পে বিনিয়োগের দাবিও এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।
ভাঙারি ব্যবসা থেকে আবাসন ব্যবসায় এসে দ্রুত সম্পদ গড়ার পাশাপাশি নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে প্রায় দুই ডজন মামলার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে অস্বীকার করেছেন তিনি।
ইসিবি চত্বরের ভাঙচুরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহিদুল ইসলাম বলেন, একদল লোক সেখানে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জমি নিয়ে বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ ও কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)