অবৈধ ইটভাটার তালিকা তৈরির নির্দেশ দিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ এএম
সংগৃহীত ছবি
দেশের অবৈধ ইটভাটাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পরিবেশ অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ইটভাটার মধ্যে আনুমানিক ১ হাজার ৭০০টি বৈধ বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে ষষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ‘জলবায়ু সহনশীলতার জন্য শিশু নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি রক্ষা ও বায়ুদূষণ কমাতে মাটি পোড়ানো ইটের ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে সরকার এগোচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে পোড়ানো ইট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। খাল খননের সময় উত্তোলন করা মাটি ইটভাটায় ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি রক্ষায় স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো এবং উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিতে হবে। একই সাথে বাজার ও দৈনন্দিন কাজে পাট ও সুতার ব্যাগ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ শুধু সভা, মঞ্চ বা কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও নিজ নিজ এলাকায় বাস্তবায়ন করতে হবে। উপকূল রক্ষায় নদী সংরক্ষণ, সুন্দরবন রক্ষা এবং দূষণ কমানোর বিষয়গুলোতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় জলবায়ু শিশু ফোরাম (কেএনএইচ) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)