Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

মহাসড়কের পাশে ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

মহাসড়কের পাশে ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ

ছবিঃ বাসস

দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার আধুনিকায়ন করে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্রকে নতুন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে গত ১২ আগস্টের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কেন্দ্র চালুর নির্দেশনা দেন। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। 

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ের গুরুতর আঘাতের রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়াই ছিল এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। তবে জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ঘাটতিতে অধিকাংশ কেন্দ্রই বছরের পর বছর কার্যত বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে মাত্র দুটি কেন্দ্রে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগীয় সেবা চালু রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে ৭ জন কনসালট্যান্ট, ৩ জন অর্থোপেডিক সার্জন, ২ জন অ্যানেসথেটিস্ট ও ২ জন আবাসিক চিকিৎসকসহ ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। পাশাপাশি ১০ জন নার্স, ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা থাকলেও কোথাও পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ হয়নি।

সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার এর একটি উদাহরণ। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কের পাশে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে নির্মিত কেন্দ্রটি ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য সাময়িকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরে আবার সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জের সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া-হাটহাজারী-রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক ও হবিগঞ্জের বাহুবলসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কেন্দ্র রয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানকে অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ করা হবে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্ত করে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজও চলছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার টেকসই অংশ হিসেবে গড়ে তোলা।

মন্তব্য করুন