অপ্রতীম হত্যায় একাধিক ক্লু, জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
অপ্রতীম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যার পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা দ্রুত উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তুহিন নামের এক যুবকের অপ্রতীমের সঙ্গে থাকার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেল থেকে ওই যুবক অপ্রতীমের সাথে ছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। অনেক খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
নিখোঁজের পর পুলিশ তার সর্বশেষ অবস্থানসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মরদেহটি প্রথম দেখতে পান আবদুল কাদের জিলানী। তিনি জানান, বাঁশ কাটতে গিয়ে জঙ্গলের ভেতরে অপ্রতীমকে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তাকে ঘুমিয়ে আছে মনে হলেও কাছে গিয়ে মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানানো হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদ ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ রাখছিল। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)