Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

ধর্মীয় জটিলতা শেষে অবশেষে ৮ দিন পর বিল্লালের দাফন

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

ধর্মীয় জটিলতা শেষে অবশেষে ৮ দিন পর বিল্লালের দাফন

সংগৃহীত ছবি

ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতার কারণে আট দিন হিমঘরে থাকা নারায়ণগঞ্জের শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পুলিশি নিরাপত্তায় জানাজা শেষে ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হন বিল্লাল। মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য কোন ধর্মীয় রীতিতে হবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। নিহতের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী সৎকারের দাবি জানান। অন্যদিকে স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে বিল্লালের লাশ ইসলামী বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবি করেন।

বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বিল্লালের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করলে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ শুনানি শেষে লাশটি তার কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন।

রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ জানান, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিট অনুযায়ী শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল। তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনাও করেছেন। পরে রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে।

আইনি জটিলতার কারণে এত দিন বিল্লালের মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের পর মরদেহটি স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় জানাজা শেষে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে বিল্লালের মা আয়েশা বেগম ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সন্তান হারিয়ে তিনি এতিমের মতো হয়ে গেছেন। তার দেড় বছরের নাতিও এতিম হয়েছে। ছেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির ফাঁসি চান তিনি।

মন্তব্য করুন