চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরো একজনের মৃত্যু
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম
নিহত বিএসএফ সদস্য মোস্তাকিম (৩৮)
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত আরো এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আগে আসাদুল হক (৩৫) মারা যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকিম (৩৮) নামের আরেক যুবকের মৃত্যু হলো। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) বিএসএফের হেফাজতে রয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ-বসুদেবপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জের দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। মোস্তাকিম উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে। আহত শ্রী উদা চন্দ্র একই গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে একদল বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে আসাদুল, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা চন্দ্র গুরুতর আহত হন।
পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত তিনজনকে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে আসাদুল হকের মৃত্যু হয়। পরে রাতে মারা যান মোস্তাকিম। বর্তমানে তাদের মরদেহ ভারতের ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি জানিয়েছে, নিহত আসাদুল হক চিহ্নিত চোরাকারবারি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে সীমান্তে গুলির ঘটনায় বিস্তারিত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, নিহত দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং ঘটনাটি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাত হোসেন সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। বিএসএফের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনা এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)