Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধাশ্রম খুলে জালিয়াতি, বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাসের কারাদণ্ড

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধাশ্রম খুলে জালিয়াতি, বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাসের কারাদণ্ড

জাকিয়া খান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবীণদের সেবার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের মামলায় জাকিয়া খান নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারক নাতাশা সি. মার্ল এই সাজা ঘোষণা করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা করতেন জাকিয়া খান। পাশাপাশি বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়ার কাজের আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং অর্থ লুকানোর জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।

২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত বছর ধরে এই জালিয়াতি চলেছে বলে আদালতের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেবা দেওয়ার পরিবর্তে প্রবীণদের নগদ অর্থের প্রলোভন দেখানো হতো। তারা প্রকৃত সেবা না নিয়েও ভুয়া হাজিরা নথিতে স্বাক্ষর করতেন এবং বিনিময়ে নগদ অর্থ পেতেন। পরে এসব নথি ব্যবহার করে জাকিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো মেডিকেয়ার ও সরকারের কাছে সেবা দেয়ার নামে ভুয়া বিল জমা দিত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই প্রতিষ্ঠান মিলে প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে সরকার থেকে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়। তদন্তে আরো উঠে আসে, এই অর্থের একটি অংশ দিয়ে জাকিয়া সম্পদ ও নগদ অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন।

আদালতের প্রক্রিয়ায় গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রমাণে ঘুষের অর্থ লেনদেনের দৃশ্যও উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের পর গত বছর জাকিয়া খান নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। আদালত কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে সরকারের কাছ থেকে নেয়া ৫৬ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে তার দুটি বাড়ি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে এই জালিয়াতির তথ্য সামনে আসে। তাদের বক্তব্য, সরকারি তহবিল আত্মসাতের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন