যানজট নিরসনে ঢাকার চার বাস টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : সড়ক প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
রাজধানীর যানজট কমাতে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানের চার বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ডিপোগুলো কাজে লাগানো, গাবতলী টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে এর আগে নেওয়া নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন উদ্যোগগুলো দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন, সভায় মূলত সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এই চাপ কমাতে বর্তমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জায়গায় টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল— এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’
গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালের পাশের নতুন জায়গাগুলো দ্রুত কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার আশপাশের সড়কে অবৈধ স্থাপনাকেও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৃহত্তর ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করার কথাও জানান তিনি।
সভায় চার বাস টার্মিনালকে ঘিরে বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা টার্মিনালগুলো উন্নত করার পাশাপাশি বাস কাউন্টার, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসি বাসের জন্য নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও সভায় আলোচনায় আসে। কোথায় ও কীভাবে বাস কাউন্টার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা স্থাপন করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পরিবহন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সড়ক প্রশস্ত করা কিংবা নতুন সড়ক নির্মাণ করে রাজধানীর যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাস চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার পরিচালনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ—সবকিছু সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সভায় যানজট নিরসন নীতির আওতায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, পরিবহন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন কতটা এগিয়েছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কাজগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, টার্মিনাল স্থানান্তর, বিকল্প ডিপো ব্যবহার, গাবতলী সম্প্রসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের কাজগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)