শজিমেকে রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ, আহত ১২
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ছবিঃ সংগৃহীত
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে দফায় দফায় মারামারিতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের মাধ্যমে সেবা চালু রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক অ্যাজমা-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর স্বজনেরা চিকিৎসায় ভুলের অভিযোগ তুলে হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে রোগীর কয়েকজন স্বজন ও তাঁদের সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের রক্ষা করতে ইন্টার্ন চিকিৎসক আদনান ইসলাম অর্ক এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশ রোগীর আহত ছয় স্বজনকে হেফাজতে নেয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বগুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত রয়েছেন। তাঁরা পুলিশ পাহারায় শজিমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। অন্য চারজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ বলেন, বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন এবং কারও কারও হাত ভেঙে যাওয়ার মতো আঘাতও লেগেছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানান তিনি।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ বলেন, হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেল মিলিয়ে ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সমাধানে হাসপাতাল প্রশাসন ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকেরা কাজ করছেন। তবে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)