ফটিকছড়িতে মিলল চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পরিবার
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অবসান হয়েছে কয়েক দিনের জল্পনার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে পরিবারের চার সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিচাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অবসান হয়েছে কয়েক দিনের জল্পনার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোরে পরিবারের চার সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী কালাম জানান, টানা দুই দিন অনুসন্ধানের পর পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে ফটিকছড়ির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত ১৯ আগস্ট থেকে পিন্টু দাসের মোবাইল ফোন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়া যায়। একই সময়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গেও স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
এর মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও স্বর্ণ পাওনা থাকার দাবি করেন। বিষয়টি সামনে আসার পর চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাঁদপুরে বসবাস ও স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছিলেন। চাঁদপুরে তাঁর আত্মীয়স্বজনও রয়েছেন। ব্যবসায়িক জীবনের শুরুতে তিনি একটি স্বর্ণের দোকানে কর্মরত ছিলেন। পরে শহরের আখন্দ মার্কেটে নিজেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে আখন্দ মার্কেটে দোকান নেন পিন্টু দাস। এর আগে জোরপুকুরপাড় এলাকায় প্রায় পাঁচ-ছয় বছর এবং নিউমার্কেটে প্রায় তিন বছর স্বর্ণের ব্যবসা করেছেন। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জেও তাঁর আত্মীয়স্বজন রয়েছে।
তবে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কেন হঠাৎ চাঁদপুর থেকে ফটিকছড়িতে চলে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি পুলিশ। ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা আর্থিক লেনদেনের জটিলতার কারণে তাঁরা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
এসআই গাজী কালাম বলেন, পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাদের বক্তব্যের পর নিখোঁজ থাকার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)