Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন মামলায় মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুদকের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম মামলার তথ্য জানান। দুদকের অভিযোগ, সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার কথা বলে প্রকৃত কোনো পণ্য কেনাবেচা ছাড়াই ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে এর একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মামলায় ২০১৮ সালের ২০ মার্চ আরামিট সিমেন্টের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কামাল বাজার শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ১৭টি ডিলের মাধ্যমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায়ও ১৬ জন আসামি।

তৃতীয় মামলায় ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সদরঘাট শাখার মাধ্যমে নয়টি ডিলে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইকুইটি বাবদ ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের মালিক ও তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন। আরামিট গ্রুপের এক কর্মচারীকে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী তৈরি করা হয় এবং তার মাধ্যমে ডিল অনুমোদন করানো হয় বলে দাবি করেছে দুদক।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, নগদ উত্তোলন, আগের দায় পরিশোধ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাচার করা হয়েছে। পরে পাচার করা অর্থ দিয়ে ইউএইতে সম্পদ কেনা এবং সেখান থেকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। দুদক সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে এসব অর্থ আত্মসাতের অন্যতম হোতা ও ‘আলটিমেট বেনিফিশিয়ারি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মামলায় আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম মো. আব্দুল আজীজ ও এজিএম একেএম মারুফসহ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া আবেদন, সরবরাহকারী হিসেবে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, ডিল অনুমোদন এবং অর্থ স্থানান্তর ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের এজিএম ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সাবেক পিএস মো. আব্দুল আজীজকে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক হিসেবে দেখানো হয়। তার নামে ব্যাংক হিসাব খোলা, ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলাগুলোতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। দুদকের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কোনো পণ্য সরবরাহ না হলেও বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে নেওয়া অর্থের প্রকৃত গন্তব্য যাচাই না করে তা বিভিন্নভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়। পরে নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং ইউএইতে অর্থ পাচারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার, ব্যাংকঋণের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারিত হবে।

মন্তব্য করুন