Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা, রহস্য কাটেনি

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা, রহস্য কাটেনি

সংগৃহীত ছবি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য এখনো পরিষ্কার হয়নি। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া এবং শিক্ষক তাদের চিনে ফেলায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে—পুলিশের এমন দাবির সঙ্গে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দি শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেন এবং ইয়াবা সেবনে বাধা দেন। এরপর আসামিরা তাকে এবং পরিবারের আরও তিন সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে। গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তীসহ অন্য স্বজনদের প্রশ্ন, ছাদের দরজা খোলার শব্দ পাওয়ার পরও দুই তরুণ কেন পালিয়ে না গিয়ে চারজনকে হত্যা করল? একই সাথে বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও রহস্য তৈরি করেছে।

নিহতের স্বজনদের আরও দাবি, ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য গণপতি চক্রবর্তীর কাছে প্রায় **৬০ লাখ টাকা** রাখা ছিল। কিন্তু ওই অর্থের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার রংপুর জিলা স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চলে। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তী বিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীও একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুরো ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা শেষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে রোববার বিকেলে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলার প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের আদালতে হাজির করা হয় এবং সেখানে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মামলাটি ইতোমধ্যে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে দেওয়া হয়েছে। আসামিরা পুলিশের কাছে যে তথ্য দিয়েছিল, আদালতের জবানবন্দিতেও মূলত সেসব তথ্যই বলেছে বলে জানান তিনি। দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহের পাশাপাশি সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা।

শনিবার রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চারজনের হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং নিখোঁজ অর্থের বিষয়টি তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

মন্তব্য করুন