Logo
×

Follow Us

সারাদেশ

এআই ক্যামেরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

এআই ক্যামেরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা

ফাইল ছবি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা চালুর পর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরা চালুর প্রথম দিন ১৮ আগস্ট অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও উলটো পথে চলাচলের অভিযোগে ৪৪৬টি মামলা হলেও পরদিন ১৯ আগস্ট মামলা হয়েছে ৪২টি। এক দিনের ব্যবধানে মামলার সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯১ শতাংশ।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এআই ক্যামেরা চালুর প্রথম দিনে অতিরিক্ত গতির কারণে ৪১৭টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৯৭টি এবং গাজীপুর অঞ্চলে ২০টি মামলা হয়েছে। একই দিনে উলটো পথে গাড়ি চালানোর ঘটনায় ২৯টি মামলা করা হয়। এসবের মধ্যে গাজীপুর অঞ্চলে ২৩টি এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ছয়টি ঘটনা শনাক্ত হয়।

তবে ১৯ আগস্ট পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ওই দিন গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলে অতিরিক্ত গতির অভিযোগে ৪২টি মামলা হলেও উলটো পথে গাড়ি চালানোর কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যামেরা চালুর পর চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআই ক্যামেরা গাজীপুর ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ অঞ্চলের আওতায় স্থাপন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অংশ থেকে মহাসড়কের একটি অংশ গাজীপুর অঞ্চলের এবং দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত অংশ কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে আইন মানার প্রবণতা এবং দুর্ঘটনা কমার বিষয়টি নির্দিষ্ট সময় পরপর মূল্যায়ন করা হবে। তার মতে, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত হওয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমেছে। অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়কে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মহাসড়কের দুই পাশে ৪৯০টি খুঁটিতে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একটি ডেটা সেন্টার ও পাঁচটি মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১৪২ কোটি টাকার বেশি।

এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, উলটো পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার চলাচল, ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যাল অমান্য এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, মহাসড়কে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ নেই। উলটো পথে গাড়ি চালালে ৩ হাজার টাকা এবং নির্ধারিত সীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালালে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এআই ক্যামেরা চালুর পর চালকদের মধ্যেও সতর্কতা বেড়েছে। মহাসড়কে চলাচলকারী বাসের যাত্রী কামরুল ইসলাম জানান, আগে বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার ঘটনা বেশি চোখে পড়লেও ক্যামেরা চালুর পর গাড়ির গতি কিছুটা কমেছে। মোটরসাইকেল চালক আব্দুল করিমও জানান, মামলা এড়াতে তিনি এখন আরও সতর্কভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহম্মেদ খোকন বলেন, এআই ক্যামেরার ব্যবহারে মহাসড়কে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন। নির্ধারিত গতিসীমা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য মালিক ও চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি না চালানোর নির্দেশনা দিয়ে ইতোমধ্যে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে সার্কুলারও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও আইন লঙ্ঘনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা চালু থাকলে চালকদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা আরও বাড়বে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনা কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন