চীনের সহায়তায় আধুনিক হচ্ছে ৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠান
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবিঃ বাসস
বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ও চীন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানদণ্ড নির্ধারণে ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’ নামে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রকাশ করা হয়েছে।
চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব উদ্যোগ সামনে আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। বেইজিং এগ্রিমেন্ট সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে যৌথ স্বাক্ষর পর্বে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে শ্বেতপত্র, লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আরো কয়েকটি দলিল প্রকাশ করা হয়।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে ছয়টি প্রধান উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে দেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন। এসব প্রতিষ্ঠানে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা ও স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌথ ২+২ ও ৩+১ মডেলের শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার্থীদের চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। একই সাথে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে। সহযোগিতা বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি ও অন্যান্য প্রদেশের খ্যাতনামা কারিগরি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং দুই দেশের বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা মনে করেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে। বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে দেশের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জনেও সহায়ক হতে পারে।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)