৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত চুয়েট উপাচার্য
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পুলিশি পাহারায় তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনার সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার অবরুদ্ধ হয়ে থাকা অন্য ব্যক্তিরাও মুক্ত হন।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।
পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ ভেতরে অবস্থানরত অন্য ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
চুয়েটের উপাচার্য পদে পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা চলছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা সংকটকে আরো জটিল করে তোলে।
পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের মুক্ত করা হয়। তবে উপাচার্যকে মুক্ত করার পরও চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)