Logo
×

Follow Us

শিক্ষাঙ্গন

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর নিষিদ্ধ, মহিলা আবাসিক না রাখার পরামর্শ

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর নিষিদ্ধ, মহিলা আবাসিক না রাখার পরামর্শ

ছবি: বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর ও যেকোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নতুন দিকনির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করা এবং মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর বোর্ডের স্থায়ী কমিটির সভায় এই চার দফা নির্দেশনা চূড়ান্ত হয়। এগুলো হলো- শাসনের শরয়ী সীমা নির্ধারণ, ইসলাহি কার্যক্রম জোরদারকরণ, ছাত্র-ছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি অনতিবিলম্বে কার্যকরকরণ এবং মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধে করণীয়।

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শাসনের উদ্দেশ্য কেবল সংশোধন ও কল্যাণ হতে হবে, কোনো অবস্থাতেই প্রতিশোধ নয়। রাগের মাথায় শাস্তি দেয়া যাবে না এবং শাসন করতে হবে ধাপে ধাপে- প্রথমে নম্র সতর্কতা, তারপর মৃদু ভৎসনা, এরপর ধমক এবং সর্বশেষ ধাপে অভিভাবককে ডেকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। লাঠি বা বেত দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল, মাথা বা স্পর্শকাতর অঙ্গে মারা, রক্তপাত ঘটানো বা দাগ ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি গালাগাল, তিরস্কার, কটু ভাষা বা মানসিক নির্যাতন পরিহার করতে বলা হয়েছে। এ সীমা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা শরীয়ত ও বিধি অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত হবেন।

প্রতিটি মাদ্রাসায় একটি ‘সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা পুনর্গঠন করে তা সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই কমিটির কাছে যেকোনো অভিযোগ পেশের সুযোগ থাকতে হবে এবং কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিটি গঠনে ব্যর্থতা বা নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন (ইলহাক) স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া প্রতিটি বোর্ডে ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ গঠন ও হটলাইন চালুর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আল-হাইআতুল উলয়ার পরিচালনা কমিটির সদস্য মুসলেহ উদ্দিন রাজু জানান, মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করা এবং পুরুষ শিক্ষক না রেখে শতভাগ মহিলা শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যেসব মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে পাঠদান পদ্ধতির জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দেশনাবলী কার্যকরের জন্য জেলাভিত্তিক ইন্সপেকশন টিম কাজ করবে এবং বোর্ডের শাখাগুলো মনিটরিং জোরদার করবে। আইন লঙ্ঘনকারী বা অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা নিতে বোর্ড সহায়তা করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু কওমি ও অন্যান্য মাদ্রাসায় শিশু প্রহার, যৌন নির্যাতন এবং ফেনীর সোনাগাজীতে ঘটে যাওয়া মারাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই ছয়টি বোর্ডের বাইরেও দেশে যেসব অনিবন্ধিত কওমি মাদ্রাসা রয়েছে, সেগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় এনে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য করুন