প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে শ্রবণ-কথনে জোর দেয়া হবে : ববি হাজ্জাজ
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার চারটি মৌলিক দক্ষতা—শ্রবণ, কথন, পঠন ও লিখন—সমান গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে শুনে বোঝা ও সঠিকভাবে কথা বলার দক্ষতা গড়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার রাজধানীর ঢাকা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টিএমটিই (ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেনার্স ইন ইংলিশ) সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, এতদিন প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা শিক্ষায় পড়া ও লেখার ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেয়া হলেও নতুন কারিকুলামে শ্রবণ ও কথন দক্ষতা বিকাশে বিশেষ অনুশীলন ও কার্যক্রম রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন শুনে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে, সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে এবং নিজের চিন্তা ও মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই পাঠ্যক্রম সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি প্রধান স্তম্ভ হলো শুনে বোঝা, বলে প্রকাশ করা, পড়ে বোঝা এবং লিখে প্রকাশ করা। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা আয়ত্তের ভিত্তি শক্ত করতে শ্রবণ ও অনুশীলনের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। একই সাথে বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ বাড়াতেও ভাষাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই একটি প্রকৃত শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাকে দক্ষতাভিত্তিক, ক্যারিয়ারমুখী এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভাষা শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শ্রেণিকক্ষে কেবল পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষাদানের পরিবর্তে আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষণপদ্ধতি চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ভিডিও, ওয়ার্কবুক, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং খেলাধুলাভিত্তিক কার্যক্রমসহ আধুনিক শিক্ষণ-উপকরণ ব্যবহারের নতুন ও কার্যকর প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার ফলাফলনির্ভর, সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক নীতিগত পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।
টিএমটিই বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রিয়াজ পারভেজের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের উপপরিচালক মারিয়া রেহমান।
অনুষ্ঠানে টিএমটিই বাংলাদেশের সদস্য ছাড়াও শিক্ষা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)