বিজেএমসির ৯ পাটকলে উৎপাদন ফিরেছে, কর্মসংস্থান ৯৫০০
প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
বিজেএমসি পাটকলগুলো আবার উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) পাটকলগুলো আবার উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেয়া ১৭টি মিলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিজেএমসির অধীনে লিজ পাওয়া আরো আটটি পাটকল চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সবগুলো মিল পর্যায়ক্রমে চালু হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মসংস্থান বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত শিল্পসম্পদ কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিজেএমসির আরও তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো হলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।
উৎপাদনে ফেরা ৯টি মিলের মধ্যে রয়েছে নরসিংদীর বাংলাদেশ জুটমিলস লিমিটেড, যশোরের জেজেআই লিমিটেড ও কার্পেটিং জুটমিলস লিমিটেড, খুলনার দৌলতপুর ও আটরার ইস্টার্ন জুটমিলস লিমিটেড, নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলস লিমিটেড, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিলস ফারনিশিংস লিমিটেড, খুলনার খালিশপুরের খালিশপুর জুটমিলস লিমিটেড এবং রাজশাহীর শ্যামপুরের রাজশাহী জুটমিলস লিমিটেড। এছাড়া খুলনার খালিশপুরের দি ক্রিসেন্ট জুটমিলস কোম্পানি লিমিটেডও লিজের আওতায় রয়েছে।
বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ থাকা ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭টি লিজ দেওয়া হয়েছে। লিজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জুট অ্যালায়েন্স, আকিজ জুট মিলস, উইনিওর্য়াল্ড ফুটওয়ার টেকনোলজি, রিগ্যাল জুট, বী সুয়েটারস, আটলান্টিক জুট, ফোর এমারডস এক্সেসরিজ, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস, বাঙ্গা বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালসসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠী।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের কয়েকটি পাটকল, খুলনার দি ক্রিসেন্ট ও প্লাটিনাম জুবিলী জুটমিল, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুটমিল এবং খুলনার দিঘলিয়ার চন্দনীমহলসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কাছে লিজ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকার ডেমরার করিম জুটমিল ও লতিফ বাওয়ানী জুটমিল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি এবং খুলনার আলিম জুটমিল নিয়ে মামলা চলমান। সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলে লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ২০২০ সালে বিজেএমসির পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং অব্যবহৃত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যে মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।
তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে মিলগুলো লিজ দেয়া হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতেও সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিচ্ছে। এ খাতে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমানো।
পাটপণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে। সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশি মিশনের মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির অধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব মিল ৫ থেকে ২০ বছরের জন্য বেসরকারি খাতে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এখন ধীরে ধীরে উৎপাদনে ফিরছে বন্ধ পাটকলগুলো।
মন্তব্য করুন
logo-1-1772191739.png)