Logo
×

Follow Us

ব্যবসা-বাণিজ্য

১৮ দেশের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন কৌশল তৈরি করছে সরকার

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

১৮ দেশের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন কৌশল তৈরি করছে সরকার

সংগৃহীত ছবি

রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারকে কেন্দ্র করে পৃথক রপ্তানি কৌশল তৈরি করছে সরকার। একই সাথে পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন স্ট্র্যাটেজি: প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডাইভার্সিফিকেশন অ্যাক্রস ১৮ কি ট্রেডিং ডেস্টিনেশনস’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা বাজার প্রোফাইল ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

বাণিজ্য সচিব জানান, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাজারের পরিস্থিতি, সম্ভাবনাময় পণ্য, রপ্তানির বাধা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে সংশ্লিষ্ট দেশের অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও নতুন দেশে প্রবেশের সুযোগ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণে পণ্যের পাশাপাশি সেবা খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়ন এবং ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন ড. মুস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদারের পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বাজারকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত কৌশল বাস্তবায়ন হলে নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো আরও বহুমুখী ও টেকসই করার পথ তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন