Logo
×

Follow Us

জাতীয়

কৈশোরের প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

কৈশোরের প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবিঃ বাসস

কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, পুষ্টি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সেরাক-বাংলাদেশ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জাতীয় উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই তরুণদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও উদ্যোগের সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।

কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকটের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের কৌতূহল স্বাভাবিক। কিন্তু সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে তারা অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারে না। এ বিষয়ে কোথায় গেলে বা কার কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকে।

তিনি আরো বলেন, মানসিক আঘাত ও পারিবারিক নির্যাতন কিশোর-কিশোরীদের মনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে। এসব সমস্যা গোপন না রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। সন্তানদের প্রশ্ন করতে নিরুৎসাহিত করার সামাজিক প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা প্রয়োজন। মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষায় পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে তরুণদের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগগুলো পরিবারকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।

কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বড় পরিসরে জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার সামাজিক পরিস্থিতি এক নয়। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সঠিক পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রযুক্তির ব্যবহার সহায়ক হতে পারে, তবে পাওয়া তথ্য একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা জরুরি।

তিনি আরো জানান, তরুণ প্রজন্মের জন্য মানসিক ও সামাজিক পরামর্শসেবা এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য সহজলভ্য করতে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসীন।

সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি আতিকা রহমান চৌধুরী এবং কিশোর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

মন্তব্য করুন